যে অভ্যাস বাড়িয়ে দিবে আপনার প্রোডাক্টিভিটি
বর্তমান সময়ে "প্রোডাক্টিভিটি" হচ্ছে একটি বহুল আলোচিত বিষয়। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন সব জায়গাতে আমরা চাই সফলতা এবং এই সফলতার সাথে জড়িয়ে আছে প্রোডাক্টিভিটি বিষয়টি। আসলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে মানতে হয় অনেক কিছু গড়ে তুলতে হয় ছোট বড় অনেক অভ্যাস। তবে এই ছোট বড় অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা খুব সহজ না আবার খুব বেশি কঠিনও না। এই অভ্যাসগুলো আয়ত্তে আনতে প্রয়োজন কিছু কৌশল অবলম্বনের। এখানে সেই সকল কৌশল এবং অভ্যাসগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। যা একজন ব্যক্তির প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সহযোগিতা করবে।
এই আর্টিকেলে যা যা থাকছে
প্রোডাক্টিভিটি কী?
আগে জেনে নেওয়া যাক প্রোডাক্টিভিটি বলতে কী বোঝায়? Productivity (প্রোডাক্টিভিটি) হচ্ছে একটি ইংরেজি শব্দ যার বাংলা অর্থ হচ্ছে উৎপাদনশীলতা। আমরা অনেকেই প্রোডাক্টিভিটি বলতে ব্যস্ত থাকা বা সব সময় কাজ করা বুঝে থাকি। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে প্রোডাক্টিভিটি বলতে বুঝায়, আপনি আপনার দৈনন্দিন কাজগুলো সম্পূর্ণ করার জন্য সময়, রিসোর্স এবং স্কিলস কিভাবে ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ ব্যস্ত থাকা মানেই প্রোডাক্টিভ হওয়া নয়।
বিষয়টি উদাহরণ দিয়ে বললে ভালোভাবে বুঝা যাবে, ধরুন একজন রাজমিস্ত্রি। সে জানে কীভাবে একটি বাড়ি নির্মাণ করতে হয় এবং কী কী সরঞ্জাম প্রয়োজন। কিন্তু কোনো সরঞ্জাম ছাড়াই সে বাড়ি নির্মাণ করছে। যে কারনে তার সময় বেশি লাগছে। যদি সে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করত তাহলে তার বাড়ি নির্মাণ করতে কয়েক গুণ সময় কম লাগত। অর্থাৎ সে তার রিসোর্স এবং স্কিলস ব্যবহার করে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে পারত।
তাই প্রোডাক্টিভিটি মানে হলো, আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো অর্থপূর্ণভাবে শেষ করার জন্য আপনার সময় এবং শক্তিকে সবচেয়ে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা।
অভ্যাস এবং কৌশল
প্রোডাক্টিভিটি বিষয়টি বুঝে থাকলে সেটা বাড়ানোর চেষ্টা সকলে করবে । কিন্তু সঠিক অভ্যাস এবং কৌশল না জানা থাকলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর চেষ্টা উল্টো মানসিক ক্লান্তি বা হতাশা ডেকে আনতে পারে । এক্ষেত্রে অভ্যাস এবং কৌশল দুটি কিন্তু আলাদা বিষয় । ধরুন আপনি প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর অভ্যাসগুলো সম্বন্ধে অবগত আছেন কিন্তু অভ্যাসগুলো আয়ত্তে আনার কৌশল জানেন না তাহলে রেজাল্ট আসবে জিরো । আবার আপনি কৌশল জানেন কিন্তু কী কী অভ্যাস আয়ত্ত করলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে তা জানেন না তাহলেও আপনি সফল হতে পারবেন না ।
তাই প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে অভ্যাস এবং কৌশলের মধ্যে বিশেষ মেলবন্ধন থাকতে হবে । কিছু বৈজ্ঞানিক কৌশল এবং কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে চাপমুক্ত থেকে সঠিক উপায়ে এই মেলবন্ধন তৈরী করা সম্ভব । তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর সেই সকল অভ্যাস এবং কৌশল সম্পর্কে ।
পরিকল্পনা
পরিকল্পনা বা Planning সর্বদা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । পরিকল্পনা হচ্ছে একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো কাজ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কিছু নিয়ম বা ধাপ অনুসরণ করতে হয় । পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়ম বা ধাপ অনুসরণ করলে প্রোডাক্টিভিটি বেড়ে যাই ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে ? এটি আসলে লিখে উপলব্ধি করা একটু কঠিন । পরিকল্পনার সাথে প্রোডাক্টিভিটির কী সম্পর্ক রয়েছে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হলে এটি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে । প্রতিদিন পরিকল্পনা মাফিক কাজ করলে ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে ।
কৌশল : কাজের পরিকল্পনা করে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে যে কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে । রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরের দিনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ চিহ্নিত করুন । দিনের কোন সময়ে কতক্ষণ ধরে কাজগুলো করবেন তা নির্দিষ্ট করুন । শুরুতে এইভাবে পরিকল্পনা করে কাজ করতে কষ্ট হবে কিন্তু অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে দেখবেন মানসিকভাবে খুব ভালো লাগছে যা আপনার প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সাহায্য করবে ।
পর্যাপ্ত ঘুম
ঘুম আমাদের জীবনের পরিচিত কাজগুলোর মধ্যে একটি । আমাদের নিত্যদিনের একটি স্বাভাবিক কর্ম। এই ঘুমকে কেন্দ্র করে রয়েছে মস্তিস্ক এবং শরীরের নানাবিধ সমস্যা ও সমাধান । ঘুমের ঘাটতি থাকলে একজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় , আবার পর্যাপ্ত ঘুমের কারনে বিভিন ধরনের সমস্যার সমাধান খুব সহজে পাওয়া যাই ।
ঘুমের সাথে প্রোডাক্টিভিটির সম্পর্ক রয়েছে । পর্যাপ্ত ঘুম হলে দিনটি ভালো যাই । যার ফলে প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি পাই । তাই প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে পর্যাপ্ত ঘুমকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে ।
কৌশল : প্রতিদিন একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমের অভ্যাস তৈরী করতে হবে । ঘুমের এই নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন ধরনের জিনিসগুলো দূরে রাখতে হবে । প্রয়োজনে ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে Do Not Disturb মুড চালু করে ঘুমাতে যেতে হবে । পর্যাপ্ত ঘুম হলে দেখা যাবে কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ থাকছে যা প্রোডাক্টিভিটি বাড়িয়ে দিবে ।
লক্ষ্য নির্ধারণ
এই আর্টিকেলের প্রথম দিকে প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা বিষয়ে কিছু কথা লিখা আছে। তবে পরিকল্পনা করতে কী প্রয়োজন সে বিষয়ে কিছু লিখা নেই। আসলে পরিকল্পনা করতে সব থেকে বেশি প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা। যেমনঃ লক্ষ্য হচ্ছে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা এবং পরিকল্পনা হচ্ছে প্রতিদিন পড়তে বসা।
এই উদাহরণ থেকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে লক্ষ্য এবং পরিকল্পনার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে পরিকল্পনার পাশাপাশি লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যতীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন এবং পরিকল্পনা ব্যতীত প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি প্রায় আসম্ভব।
কৌশল : লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হতে হবে। প্রথমেই বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট করা যাবে না। আগে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট করার অভ্যাস করতে হবে। আবার এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট করতে হবে যা পূরণ করা সম্ভব।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url