ঈদের নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম
নামাজ অথবা সালাত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। নামাজ একজন মুসলিম ব্যক্তির সাথে মহান আল্লাহর গভীর সংযোগ স্থাপনের জন্য ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই ইসলাম ধর্মের ৫ টি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে "নামাজ"। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি আরও বিশেষ কিছু নামাজ রয়েছে। এই সকল নামাজের মধ্যে ঈদের নামাজ অন্যতম।
এই আর্টিকেলে যা যা থাকছে
- কেন ঈদের নামাজ অন্যতম?
- প্রথম ধাপ (নিয়ত)
- দ্বিতীয় ধাপ (সানা)
- তৃতীয় ধাপ (১ম রাকাত)
- চতুর্থ ধাপ (২য় রাকাত)
- পঞ্চম ধাপ (সালাম ফেরানো)
- লেখকের ব্যক্তিগত মতামত
কেন ঈদের নামাজ অন্যতম?
মুসলমানদের দু'টি প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দুটি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে আদায় করা হয় ঈদের নামাজ। ঈদের নামাজ আদায় করার পদ্ধতি এবং অন্যান্য নামাজ আদায় করার পদ্ধতির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্যগুলো হচ্ছেঃ
- ঈদের দুই রাকাত নামাজ আদায়ের জন্য কোনো আজান দেওয়া হয় না
- ঈদের নামাজের জন্য ইকামত দেওয়ার নিয়ম নেই
- ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হয়
- ঈদের নামাজ অবশ্যই জামাতের সঙ্গে পড়তে হবে
- ঈদের নামাজের খুতবা নামাজ শেষে পড়া হয়
প্রথম ধাপ (নিয়ত)
জায়নামাজের উপর কিবলামুখী হয়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথমে ঈদের দুই রাকাত নামাজ আদায়ের জন্য নিয়ত করতে হবে। অবশ্যই কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াতে হবে তাছাড়া নামাজ শুদ্ধ হবে না। সঠিকভাবে নিয়ত করার পর ইমাম সাহেবের সাথে মিল রেখে তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ "আল্লাহু আকবার" বলে হাত বেঁধে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ (সানা)
হাত বেঁধে নেওয়ার পর নির্ভুল ভাবে সানা পড়তে হবে। সানা পড়া শেষ হলে অতিরিক্ত ৩ তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ "আল্লাহু আকবার" দিতে হবে।
অতিরিক্ত ৩ তাকবিরে তাহরিমার নিয়ম হচ্ছে ১ম তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ "আল্লাহু আকবার" বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবেনা)।
২য় তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ "আল্লাহু আকবার" বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবেনা)।
৩য় তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ "আল্লাহু আকবার" বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে এবার হাত বেঁধে নিতে হবে। অবশ্যই প্রতি তাকবিরের মধ্যে ৩ তাসবিহ সমপরিমাণ বিরতি থাকতে হবে।
তৃতীয় ধাপ (১ম রাকাত)
অতিরিক্ত ৩ তাকবিরে তাহরিমা সম্পন্ন করার পর হাত বাঁধা অবস্থায় সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পড়তে হবে। পড়া শেষ হলে ইমাম সাহেবের সাথে মিল রেখে রুকু ও সেজদা সম্পন্ন করে প্রথম রাকাত শেষ করতে হবে। তবে ৫ ওয়াক্ত নামাজের ক্ষেত্রে যেভাবে রুকু ও সেজদা দেওয়া হয়ে থাকে এখানে ঠিক একইভাবে রুকু ও সেজদা দিতে হবে।
চতুর্থ ধাপ (২য় রাকাত)
এবার দ্বিতীয় রাকাত শুরু। সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পড়ে ফেলতে হবে। সূরা পড়া শেষ হয়ে গেলে রুকুতে যাওয়ার ঠিক আগে আবার অতিরিক্ত ৩ তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ "আল্লাহু আকবার" দিতে হবে।
দ্বিতীয় রাকাতের এই অতিরিক্ত ৩ তাকবিরে তাহরিমার সাথে প্রথম রাকাতের অতিরিক্ত ৩ তাকবিরে তাহরিমার সামান্য পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্যটি হচ্ছে দ্বিতীয় রাকাতের এই অতিরিক্ত ৩ তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ হিসেব অনুসারে ৪র্থ তাকবিরে তাহরিমার ক্ষেত্রে "আল্লাহু আকবার" বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবেনা)।
৫ম তাকবিরে তাহরিমার ক্ষেত্রে "আল্লাহু আকবার" বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবেনা)।
৬ষ্ঠ তাকবিরে তাহরিমার ক্ষেত্রে "আল্লাহু আকবার" বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আবারও ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবেনা)। পার্থক্যটা মূলত এখানেই এবং এভাবেই শেষ হবে ঈদের নামাজের অতিরিক্ত ৬ তাকবির। এখানেও প্রতি তাকবিরের মধ্যে ৩ তাসবিহ সমপরিমাণ বিরতি থাকতে হবে।
পঞ্চম ধাপ (সালাম ফেরানো)
তারপর আবার "আল্লাহু আকবার" বলে ইমাম সাহেবের সাথে মিল রেখে রুকু ও সেজদা সম্পন্ন করে সালাম ফিরিয়ে দ্বিতীয় রাকাত শেষ করতে হবে। তাহলেই শেষ হবে অতিরিক্ত ৬ তাকবির বিশিষ্ট ঈদের এই বিশেষ নামাজ।
লেখকের ব্যক্তিগত মতামত
মুসলিম সম্প্রদায়ের যে সকল ধর্মীয় উৎসব রয়েছে এর মধ্যে ঈদ হচ্ছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের সকলকে এই বিশেষ ধর্মীয় উৎসবটি সঠিক নিয়ম মেনে পালন করতে হবে। যেন আমাদের একমাত্র সৃষ্টি কর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের উপর সন্তুষ্ট হন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url